ব্যবসা করার ১০টি টিপস, নিয়ম ও করণীয় ।

ব্যবসা করার টিপস

 

আপনি কি বাকিদের মতন ব্যবসা করা টিপস ,কৌশল এবং নিয়ম নিয়ে চিন্তিত কি করে উঠবেন ভেবে পাচ্ছেন না । চিন্তিত আছেন ব্যবসাতে উন্নতি এবং অনেক লাভ করা যেতে পারে কিভাবে ? তাহলে আজকে এই আর্টিকেলটি শুধু আপনার জন্যই ব্যবসা করার টিপস নিয়ে লেখা হয়েছে ।

এই আর্টিকেলে লেখা টিপসগুলি আজকে আপনাকে ব্যবসা করার উপযুক্ত বুদ্ধি খুলে দেবে। এই বুদ্ধি আপনার ব্যবসায় প্রয়োগ করলে । আপনার ব্যবসার সাথে উন্নতি হবে সঙ্গে আপনি অধিক লাভবান হবেন।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অনেক মানুষই নটা থেকে পাঁচটার চাকরি জীবনের বিনিময়ে ব্যবসাকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেশি পছন্দ করছে।

ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল মিভিয়ার ব্যাপক উন্নত ও গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যম করে অনেক মানুষ ছোট ব্যবসার ভূমিকা শুরু করে দিয়েছে।

তবে এই যুগে প্রতিযোগিতার দৌড়ে নিজের ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখা বা লাভের মুখ দেখানো অনেকটা বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেছে। তাই নিজের ব্যবসাকে ভালোমতো পরিচালনা জন্য প্রয়োজন ব্যবসার কৌশল ও নিয়ম গুলোর ব্যাপারে অজ্ঞাত থাকা।

জাতীয় তথ্যবিজ্ঞান কেন্দ্রে একাধিক শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ, ৩০০০০ টাকা বেতন ।: ব্যবসা করার ১০টি টিপস, নিয়ম ও করণীয় ।

 

ব্যবসা করার টিপস, কৌশল এবং নিয়ম (১০টি)

দেখুন আজকের আমাদের এই আর্টিকেলে আপনি জানতে চলছেন সেরা দশটি ব্যবসা করার  টিপস সম্পর্কে। যা আপনাকে ব্যবসার সিদ্ধান্তে অনেকটাই সাহায্য করবে।

যদি আপনি নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন বা আগের কোন ব্যবসা চলছে এখনো। এই দুটো ক্ষেত্রেই আমাদের টিপসগুলি ভালোভাবে আপনার কাজে লাগবে। তা টিপসগুলো আপনি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

চলুন এবার আমরা জেনে নিই ব্যবসা করার সেরা কৌশলন সঠিক নিয়ম সম্পর্কে।


১: সঠিক পরিকল্পনা

দেখুন একটি স্বাধীনভাবে ব্যবসা শুরু করা আর যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়ানো দুটো প্রায়ই সমান। আর এই দুটোই ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ের সাথে সঠিক পরিকল্পনা নেওয়া হল আসল কাজ।।

যেরকম একটি কথা প্রচলিত আছে যে কোন পুরুষের সাফল্যের পেছনে কোন মহিলার হাত থাকে, সেরকমই যে কোন ব্যবসার সাফল্যের পিছনে থাকে সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও তার সঠিক প্রয়োগ করা।

তবে যেকোনো ধরনের পরিকল্পনা করতে হলে ,আপনার কোন বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অর্থাৎ আপনার নিজের বুদ্ধি ও ব্যবসার কৌশলের ব্যাপারে আপনার চেনা জানা ব্যক্তিবর্গ ,আপনি যেই জিনিস নিয়ে ব্যবসা করতে চান সেই জিনিসের ওপর কোনো পেশাদার ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করা উচিত।

কারণ আপনার একার চিন্তাভাবনার থেকে ভালো একাধিক মানুষের চিন্তা ভাবনা, যার থেকে আপনি কিছু শেখা ও এক্সপেরিয়েন্স এই দুটোই সফলভাবে আপনার ব্যবসার উন্নতির কাজে লাগাতে পারবেন।

২: অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা

আপনার মত সমতুল্য ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায় যে কৌশল অবলম্বন করছে, তাদের থেকে কিছু শিখে নিয়ে এবং তাদের থেকে ভালোভাবে আপনার ব্যবসায় সেটিকে প্রয়োগ করতে হবে।

বাস্তবিক ব্যবসায় আপনার অভিজ্ঞতা থাকলে, নিজের ব্যবসায় সেই অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় অনেকটাই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

উচ্চমানের অভিজ্ঞ পেশাদারী ব্যবসায়ীরা বলে থাকেন, “অভিজ্ঞতাই ব্যবসা ক্ষেত্রে তাদের প্রধান শিক্ষক”.

৩: ধৈর্যশীলতা

গাছে চড়তে গেলে প্রথমবারে যেমন গাছের আগাতে ওটা সম্ভব নয়, তেমনি ব্যবসা করতে গেলে প্রথমে ব্যবসার ফলের আশা করা বৃথা।

পৃথিবীতে ব্যবসা থেকে শুরু করে সবকিছু দাঁড় করাতে গেলে ধৈর্য লাগে। প্রথমে প্রয়োজন আপনার ব্যবসাকে দাঁড় করাতে কয়েকটা বছর সময়টা ও প্রচুর ধৈর্যশীলতা।

ব্যবসা অনেকটা চাষির চাষ করা ফসলের মত ,আপনি চাষীর মত মূলধন ব্যবহার করুন ক্রয় বিক্রয় করুন ,কিন্তু বরাদ্দ সময় ও অনুকূল পরিস্থিতি না পেলে, ফসলের মতো আপনার ব্যবসা হয়ে যেতে পারে।

ব্যবসায়ী ঠিক ভুল প্রতিটা সময় চলতে থাকে ,তাই আপনার উচিত অনুকূল ও প্রতিকূল তুই পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে, ধৈর্য ধরে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৪: বাজার নির্ধারণ

দেখুন ব্যবসা পৃথিবীতে দুই রকম ভাবেই করা যায় । প্রথমত কোন পণ্য বিক্রি করে অথবা কোন পরিসেবা প্রদান করে। তাই প্রথমেই আপনার পণ্য বিক্রি অথবা পরিষেবা প্রদানের বাজার নির্ধারণ করতে হবে।

কারণ আপনার পণ্য বা পরিষেবা ভোগ করার মত যদি কোনো ক্রেতা না থাকে, তাহলে আপনার ব্যবসা ধুলোয় মিশে যাবে। তাই আপনি আপনার পণ্য বা পরিষেবা বাজার ঠিক করুন।

আপনি আপনার ক্রেতার বয়স, রুচি, ইচ্ছা, পেশা, পরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয়ে সঠিক পর্যালোচনা করুন। কারন মানুষ তখনই কোন পণ্য বা পরিষেবা নেবে, যখন তাদের জীবনে সেই পণ্য পরিষেবার চাহিদা থাকবে।

বর্তমানে অনেক অনলাইন শ্রমিকদের ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা চট করে নিজেদের ব্যবসা বাজার সম্পর্কে সমীক্ষা করে ফেলতে পারে।

৫: মূলধন

ছোট ব্যবসা হোক বা বড় ব্যবসা, মূলধন সব ব্যবসাতেই প্রয়োজন। মূলধনের পুঁজি ছাড়া আজ অব্দি কোন ব্যবসা হয়নি। ব্যবসা করতে গেলেই পুঁজি দরকার।

অনেকে নিজের জমা পুঁজি সম্মান করে ব্যবসা করে, যেটিকে ব্যবসায়িক ভাষাতে বলা হয় (Bootstrap Business ). আবার কেউ কেউ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা করে আবার কেউ ইনভেস্টরদের থেকে ইকুইটির বদলে টাকা নিয়ে ব্যবসা করে।

আবার অনেক সময় অনেক স্টাটাপ বিজনেসে স্কিম থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করে। তবে প্রত্যেকটা জায়গায় একটি জিনিসেরই কথা আছে সেটি হল মূলধন , এই মূলধন বিনিয়োগ ছাড়া ব্যবসা হয় না।

প্রত্যেকটা ব্যবসায়ী কোন নতুন ব্যবসা শুরুর আগে, তাদের সেকেন্ড সোর্স অফ ইনকামের একটা জায়গা করে রাখা উচিত। যদি কোন কারণ বসত নতুন ব্যবসায় কোন দুরবস্থা দেখা যায়। সে ক্ষেত্র তার পারিবারিক জীবনে কোন ক্ষতি হবে না।

আপনার বাজেট যত নিখুঁত ও পরিকল্পিত হবে, আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে পুজি বিনিয়োগ ও ততো বেশি সহজ হবে ।

এরই সাথে সাথে আপনার ব্যক্তিগত ব্যয়ের ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা করে তবেই মূল জোগাড় করা উচিত কাজ হবে।

৬: অর্থ ব্যবস্থাপনা

ব্যবসার প্রথমে ব্যয়ের পরিমাণ আয়ের তুলনায় বেশি হয় । তাই আপনার মানিশ ম্যানেজমেন্ট জানাটা একান্ত প্রয়োজনীয়। এতে করে ব্যবসায় কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা, ন্যায় সঙ্গত তা সহজেই পর্যালোচনা করা যাবে। তার থেকে আপনি অপ্রয়োজনীয় খরচটা হাত থেকে আপনার ব্যবসাকে জীবিত রাখতে পারেন।

সব সময় মূল পুজির কিছু অংশ জামানত বা অতিরিক্ত টাকা হিসেবে সরিয়ে রাখো। যাতে বিপদের সময় সেই টাকা আপনি কাজে লাগাতে পারেন।

তাছাড়াও কিছু পরিমাণ টাকা অতিরিক্ত খরচ হিসেবে হাতে রাখাও ভালো।

৭: ঝুঁকি নেওয়ার কৌশল

ব্যবসার শুরু শুরুতেই লাভের আশায একমাত্র অশিক্ষিতরা করে থাকে। প্রথমে প্রথমে ব্যবসাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সময় অনেক ভুল হয়ে থাকবে, তাতে আপনার ক্ষতি ও হতে পারে।

যদি আপনি ঐ ক্ষতির ভয়ে আর বিনিয়োগ করতে ভয় পান তবে সেক্ষেত্রে আপনার ব্যবসা আর সাফল্যের পথ এগোবে না। তাই ব্যবসায় সাফল্যের জন্য ঝুঁকি নিয়ে ক্ষতির মুখে পড়া আর সেই ক্ষতি থেকে নিজের ব্যবসাকে লাভের মুখ দেখিয়ে অগ্রসর হওয়া। এর জন্য দরকার ঝুঁকির সাথে মোকাবিলা করার মত যোদ্ধার মনোভাব।

৮: প্রচার প্রক্রিয়া

আমরা সচরাচর এই প্রচার কথাটি শুনে আসি, কিন্তু ইংরেজ আমলের পর থেকে আমাদের বাংলা ভাষায় আর তেমন গুরুত্ব না দিয়ে ইংলিশ ওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকি। এবং এটির মানে হল মার্কেটিং যেটি কে আমরা সচরাচর লোকোমুখি শুনে আসছি।

বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ব্যবসার প্রচার ও প্রসারের উপর বিশেষ জোর দিয়ে থাকেন।

বিশেষ করে ডিজিটাল প্লাটফর্মে মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে জনগণের চাহিদার কথা ভেবে, ব্যবসার ডিজিটাল মার্কেটিং এর ওপর বেশি নজর দিচ্ছেন।

কারণ ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন খরচ কম কিন্তু একসাথে বহু মানুষের কাছে সেকেন্ডের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। তাই একজন অত্যাধুনিক ব্যবসায়ী হয়ে আপনার উচিত আপনার ব্যবসার প্রচার প্রসার ও বিস্তারে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন ও মার্কেটিং ছাড়া ব্যবসার জগত অন্ধকার মানুষজনের কাছে পৌঁছাতে গেলে যে কোন না যেকোনো মার্কেটিংয়ের দরকার হবেই। তাই আপনার একান্ত উচিত আপনার পুঁজি একাংশ অবশ্য ভাবে মার্কেটিং ও এডভার্টাইজমেন্ট এর কাজে লাগানো।

৯: পন্যের গুণগত মান, সরবরাহ ও সঠিক মূল্য নির্ধারণ

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে পণ্য ও পরিষেবা গুণগত মান খারাপ হওয়ায় । তারা তাদের সম্ভাব্য ক্রেতা হারিয়ে ফেলেছে।

আবার অনেক সময় এটাও দেখা গেছে অনলাইন ব্যবসা ক্ষেত্রে সময় মতো পরিষেবা বা সরবরাহ না পাওয়াই। ক্রেতা পুনরায় সেসব কোম্পানি থেকে আর ক্রয় করতে চাই না।

তাই এই পরিপ্রেক্ষিতে আপনার নিজের অন্যের মান মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন থাকা জরুরী। এবং ক্রেতা ফিডব্যাক নেওয়া চেষ্টা করতে হবে, যে আপনার ক্রেতা আপনার পরিষেবা বা পণ্য ব্যবহার করে কেমন সুবিধা পেলেন।

এবং তাদেরকে আপনাকে আপনার ভুলগুলো সমাধান করতে হবে। এছাড়াও ব্যবসার ক্ষেত্রে কাস্টমার কেয়ার ব্যবস্থা করতে পারলে আরো ভালো হয়।

১০: কৌশল

যুগের সাথে সমানতালে তাল মিলিয়ে ব্যবসার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে না পারলে, ব্যবসার জগতে টিকে থাকা অসম্ভব। সব সময় চেষ্টা করতে হবে, নিজের ব্যবসায়িক বুদ্ধিতে কাজে লাগে ও মার্কেটে হাল নিয়ে সবসময় নড়াচাড়া করতে হবে।

নিজের প্রতিযোগী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাতে আপনি চলতে পারে ,সে ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব নিজেকে কৌশলী করে তুলতে হবে।

ব্যবসার জগতে এটা আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, “এই দুনিয়ায় কেউ কারোর মুখে এমনি এমনি রুটি তেলে দেয় না, সেই রুটির যোগার ও পাকা বন্দোবস্ত আমাদের নিজেদেরই করতে হয়”।


ব্যবসা করার টিপস ( আত্মবিশ্বাসী )বোনাস

নিজের ব্যবসা দাঁড় করানোর মুখের কথা নয়, কঠোর তপস্যার মত দিন না ত্যাগ করে এই ব্যবসার পিছনে আপনাকে পড়ে থাকতে হবে।

আপনাকে প্রত্যেকটা সময় মনে রাখতে হবে যেই পরিস্থিতিই আসুক না কেন আপনাকে আত্মবিশ্বাসের সাথে মোকাবিলা করে আপনার ব্যবসাকে দাঁড় করাতে হবে।

আমরা সকলেই জানি আত্মবিশ্বাস এর মত শক্তি কোন জিনিসের মধ্যে নেই। তাই কোন মুহূর্তে নিজের আত্মবিশেষ কে ভেঙ্গে পড়তে দেবেন না।


আমাদের আজকের এই ব্যবসা করার টিপস ( Business Tips ) নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি কেমন লাগলো। তার নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলো না।

আর্টিকেলটি যদি আপনাদের অনেক ভালো লেগে থাকে। তাহলে চাইলে আপনার আত্মীয় পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের কাছে শেয়ার করতে ভুলনা।

 

 

Written By Mayukh